মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৪ অপরাহ্ন
মোঃ রেজাউল করিম রয়েল শ্রীনগর মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি::
শ্রীনগর থানার গেটে পায়ে ইনফেকশন নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে পড়েছিল অহিদ নামে এক পাগল। পায়ে পচন ধরায় গন্ধে কেউ কাছে যেতে পারতো না। অভুক্ত অবস্থায় দিন দিন সে নুয়ে পরছিল। শ্রীনগর থানায় যাতায়াতের সময় প্রতিদিনই তা বিভিন্ন জনের চোখে পরতো কিন্তু কেউ সামনে যেতনা। বিষয়টি নাড়া দেয় একই পথে যাতায়াতকারী শ্রীনগর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধি মোঃ আওলাদ হোসেনকে। সে পাগল অহিদকে কয়েক বেলা খাবার ও পানীয়ের যোগান দেন। চিকিৎসার জন্য বিষয়টি তুলে ধরেণ শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইউনুচ আলীর কাছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সৈয়দ রেজাউল ইসলামের সাথে আলাপ করলে তিনি চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহন করেন। শারীরীক ভাবে একটু সুস্থ্য হয়ে পাগল তার নাম জানায় অহিদ এবং তার বাড়ি চাঁপুরের হাজিগঞ্জের বালাখাল গ্রামে। পরক্ষনেই আবার অন্য ঠিকানার কথা বলে। ঠিকানা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আওলাদ হোসেন দৈনিক যুগান্তরের সাবেক সিনিয়র রিপোর্টার ও দৈনিক দেশ রুপান্তর পত্রিকার ষ্টাফ রিপোর্টার আলাউদ্দিন আরিফের সহায়তায় হাজীগঞ্জের সমকাল প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করেন। হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সমকাল প্রতিনিধি মোঃ কামাল হোসেন খোজ নিয়ে অহিদ পাগলের ভাই বোনদের মোবাইল ফোন নাম্বার দেন। আওলাদ হোসেন পাগল অহিদের বোনের জামাই তাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করেন।
তাজুল ইসলাম জানায়, অহিদের ঘরে ৭ বছরের এক ছেলে ও ৫ বছরের এক মেয়ে রয়েছে। অহিদের স্ত্রী সংসার ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলে অহিদ পাগল হয়ে যায়। ৩ বছর আগে হঠাৎই এলাকা থেকে উধাও হয়ে যায়। অনেক খোজাখুজি করে না পেয়ে আমরা তাকে পাওয়ার আশা ছেড়ে দেই। শনিবার সকালে অহিদের বোন ও বোন জামাই শ্রীনগর এসে অহিদকে সনাক্ত করেণ। অহিদ তার পরিবারের লোকজনকে দেখে আবেগ আপ্লুত হয়ে পরে। বোনকে ডেকে কান্না জড়িত কন্ঠে বলে আমাকে নিয়ে যাও। অহিদ পাগলের বোন ও বোনের জামাই শ্রীনগর থানা পুকুরের ঘাটে নিয়ে তাকে গোসল করিয়ে নতুন লুঙ্গি ও ফতুয়া পরিয়ে দেন।
অহিদকে চাঁদপুর নিয়ে যাওয়ার আগে শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইউনুচ আলী, সাংবাদিক আওলাদ হোসেন, মোঃ আরিফ হোসেন, রেজাউল করিম রয়েল ও ব্যবসায়ী জনি তাৎক্ষনিক ভাবে কয়েকজনের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা তুলে দেন। বিষয়টি নিয়ে শ্রীনগর থানা চত্তরে বেশ আলোচনা চলছে। সাংবাদিকদের এমন উদ্যোগকে সবাই সাধুবাদ জানচ্ছেন।